ফিরে দেখা ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।

বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজার।

দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় সব সূচকেই এসব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এ বছর বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের বছরে যা ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে পাকিস্তানের কেএসই সূচকটি ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১০৪৭৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ৭২১৬০ পয়েন্ট। শ্রীলংকার সিএসইঅল সূচকটি ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ১৫৮২৭ পয়েন্ট। আর ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকটি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৮৪৭৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সালে যা ছিল ৭৮৩৫৮ পয়েন্ট।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও বাজার মূলধন ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যেখানে এ বছর দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। এ সময়ে লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শেষে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বড় আর্থিক জরিমানা করলেও বাস্তবে আদায় হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব এসময় দৃশ্যমান ছিল। ফলে ‘নামমাত্র’ যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাতে বাজারে আস্থা তৈরি করেনি। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠিত হলেও তেমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ বছর পুঁজিবাজারে বেশকিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই বাজার থেকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরো আটটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল তার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি। সব মিলিয়ে বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও আশাহত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আরও